1পরে মহাযাজক বললেন, এসব কথা কি সত্য? তিনি বললেন,
2প্রিয় ভাইয়েরা ও পিতারা, শুনুন। আমাদের পিতা অব্রাহাম হারণে বাস করার আগে যেসময়ে মিসপটেমিয়ায় ছিলেন, সেসময় প্রতাপের ঈশ্বর তাঁকে দর্শন দিয়েছিলেন, আর বলেছিলেন,
3"তুমি নিজের দেশ থেকে ও সমস্ত আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে বাইরে বের হও, এবং আমি যেদেশ তোমাকে দেখাই, সেদেশে চল।"
4তখন তিনি কলদীয়দের দেশ থেকে বের হয়ে এসে হারনে বসবাস করলেন; আর তাঁর পিতার মৃত্যুর পর (ঈশ্বর) তাঁকে সেখান থেকে এদেশে আনলেন, যেদেশে আপনারা এখন বাস করছেন।
5কিন্তু এদেশে তাঁকে অধিকার দিলেন না, এক টুকরো জমিও না; আব্রাহাম প্রতিজ্ঞা করলেন যে , তিনি তাঁকে ও তাঁর পরে তাঁর বংশকে অধিকার দেবেন, যদিও তখন তাঁর কোনও সন্তান হয়নি।
6আর ঈশ্বর এমন বললেন যে, "তাঁর বংশ বিদেশে বাস করবে, এবং লোকে তাদের দাস বানাবে ও তাদের প্রতি চারশো বছর পর্যন্ত অত্যাচার করবে;"
7আর তারা যেজাতির দাস হবে, আমিই তাদের বিচার করব," এটা ঈশ্বর আরও বললেন, "তারপরে তারা বাইরে বেরিয়ে আসবে, এবং এই স্থানে আমার আরাধনা করবে।"
8আর তিনি তাঁকে ত্বকছেদের নিয়ম দিলেন, আর এভাবে অব্রাহাম ইসাহাক কে জন্ম দিলেন, এবং আটদিনের দিন তাঁর ত্বকছেদ করল: পরে ইসাহাক যাকোবের, এবং যাকোব সেই বারো জন পিতৃকুলপতির জন্ম দিলেন।
9আর পিতৃকুলপতিরা যোষেফের উপর হিংসা করে তাঁকে বিক্রি করলে তিনি মিশরে যান।
10কিন্তু ঈশ্বর তাঁর সাথে সাথে ছিলেন, এবং তাঁর সমস্ত দু:খকষ্ট থেকে তাঁকে উদ্ধার করলেন, আর মিশরের রাজা ফরৌনের সামনে অনুগ্রহ ও জ্ঞানীর পরিচয় দিলেন; এজন্য ফরৌণ তাঁকে মিশরের ও নিজের সমস্ত ঘরের অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত করলেন।
11পরে সমস্ত মিশরে ও কনানে দুর্ভিক্ষ হল, লোকেরা খুব কষ্ট পেতে থাকল, আর আমাদের পূর্বপুরুষদের খাবারের অভাব হল।
12কিন্তু মিশরে খাবার আছে শুনে যাকোব আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রথমবার পাঠালেন।
13পরে দ্বিতীয়বারে যোষেফ নিজের ভাইদের সাথে পরিচিত হলেন, এবং যোষেফের বংশ সম্পর্কে ফরৌণ জানতে পারলেন।
14পরে যোষেফ নিজের পিতা যাকোবকে এবং নিজের সমস্ত বংশকে, পঁচাত্তর জনকে, নিজের কাছে ডেকে পাঠালেন।
15তাতে যাকোব মিশরে গেলেন, পরে তাঁর ও আমাদের পূর্বপুরুষদের মৃত্যু হল।
16আর তাঁদের শিখিমে এনে কবর দেওয়া হয়েছে, এবং যে কবর অব্রাহাম রূপো দিয়ে শিখিমে হামোর সন্তানদের কাছ থেকে কিনেছিলেন, সেখানে কবরপ্রাপ্ত হয়েছে।
17পরে, ঈশ্বর অব্রাহামের কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হওয়ার সময় এগিয়ে আসলে, লোকেরা মিশরে বেড়ে সংখ্যায় অনেক হয়ে উঠল,
18শেষে মিশরের উপরে এমন আর এক জন রাজা হলেন, যে যোষেফকে জানতেন না।
19তিনি আমাদের জাতির সাথে চালাকি করলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের সাথে খারাপ ব্যবহার করলেন, উদ্দেশ্য এই যে, তাঁদের শিশুদের যেন বাইরে ফেলে দেওয়া হয়, যেন তারা বেঁচে না থাকে।
20সেই সময় মোশির জন্ম হয়। তিনি ঈশ্বরের চোখে সুন্দর ছিলেন, এবং তিনমাস পর্যন্ত পিতার বাড়িতে পালিত হন।
21পরে তাঁকে বাইরে ফেলে দিলে ফরৌনের মেয়ে তুলে নেয়, ও নিজের ছেলে করার জন্য লালন-পালন করলেন।
22আর মোশি মিশ্রীয়দের সমস্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হলেন, এবং তিনি বাক্যে ও কাজে বলবান ছিলেন।
23পরে তাঁর প্রায় সম্পূর্ণ চল্লিশ বছর বয়স হওয়ার পর নিজের ভাইদের, ইস্রায়েল সন্তানদের, পরিচয় করার ইচ্ছা তার হৃদয়ে জাগলো।
24তখন এক জনের উপর অন্যায় করা হচ্ছে দেখে, তিনি তার পক্ষ নিলেন, ঐ মিশ্রীয় লোককে মেরে অত্যাচার সহ্য করা লোকটিকে সুবিচার দিলেন।
25তিনি মনে করলেন তার ভাইয়েরা বুঝেছে যে, তাঁর হাতের দ্বারা ঈশ্বর তাদের মুক্তি দিচ্ছেন; কিন্তু তারা বুঝল না।
26আর পরের দিন তারা যখন মারামারি করছিল, তখন তিনি তাদের কাছে গিয়ে মিটমাট করার চেষ্টা করলেন, বললেন, হে প্রিয়, তোমরা তো ভাই, এক জন অন্য জনের সাথে অন্যায় করছ কেন?
27কিন্তু প্রতিবেশীর প্রতি অন্যায় করেছিল যেব্যক্তি, সে তাকে ঠেলে ফেলে দিয়ে বলল, তোমাকে অধ্যক্ষ ও বিচারকর্তা করে আমাদের উপরে কে নিযুক্ত করেছে?
28কালকে যেমন সেই মিশ্রীয়কে মেরে ফেলেছিলে, তেমনি কি আমাকেও মেরে ফেলতে চাও?
29এই কথায় মোশি পালিয়ে গেল, আর মিদিয়ণ দেশে বিদেশী হয়ে বসবাস করতে লাগল; সেখানে তার দুই ছেলের জন্ম হয়।
30পরে চল্লিশ বছর পূর্ণ হলে সীনয় পর্বতের মরুভূমিতে এক দূত একটা ঝোপে অগ্নিশিখায় তাকে দেখা দিল।
31মোশী সে দৃশ্য দেখে আশ্চর্য হয়ে উঠল, আরও ভালো করে দেখার জন্য কাছে যাচ্ছিল, এমন সময়ে প্রভুর এক আওয়াজ শোনা গেল, বললেন,
32" আমি তোমার পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, অব্রাহামের, ইসহাকের ও যাকোবের ঈশ্বর।" তখন মোশী ভয় পেয়ে ভাল করে আর দেখার সাহস করলেন না।
33পরে প্রভু তাঁকে বললেন, "তোমার পা থেকে জুতো খুলে ফেল; কেননা যে জায়গাতে তুমি দাঁড়িয়ে আছ, ওটা পবিত্র জায়গা।
34আমি মিশরের মধ্যে আমার প্রজাদের দুঃখ ভাল করে দেখেছি, তাদের কান্না শুনেছি, আর তাদের উদ্ধার করতে নেমে এসেছি, এখন এসো, আমি তোমাকে মিশরে পাঠাই।"
35এই যে মোশীকে তারা অস্বীকার করেছিল, বলেছিল, তোমাকে অধ্যক্ষ ও বিচারকর্তা করে কে নিযুক্ত করেছে? তাঁকেই ঈশ্বর, যেদূত ঝোপে তাঁকে দেখা দিয়েছিল, সেই দূতের হাতের দ্বারা অধ্যক্ষ ও মুক্তিদাতা করে পাঠালেন।
36তিনি মিশরে, লোহিত সমুদ্রে ও মরুভূমিতে চল্লিশ বছর পর্যন্ত্য নানারকম অদ্ভুত লক্ষণ ও চিহ্ন কাজ করে তাদের বের করে আনলেন।
37ইনি সেই মোশি, যে ইস্রায়েল সন্তানদের এ কথা বলেছিলেন, "ঈশ্বর তোমাদের জন্য তোমাদের ভাইদের মধ্যে থেকে আমার মতো একজন ভাববাদীকে উৎপন্ন করবে।"
38তিনিই মরুভূমিতে যিহূদীদের সাথে ছিলেন; যেদূত সীনয় পর্বতে তাঁর সাথে কথা বলেছিলেন,। তিনিই তাঁর এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের সাথে ছিলেন। তিনি আমাদের দেওয়ার জন্য জীবনদায়ী বাক্য-সকল পেয়েছিলেন।
39আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাঁর কথা মানতে চাইল না, বরং তাঁকে ঠেলে ফেলে দিলেন, আর মনে মনে আবার মিশরের দিকে ফিরলেন,
40হারোণকে বললেন, "আমাদের জন্য দেবতা তৈরি কর, তাঁরাই আমাদের আগে আগে যাবেন, কেননা এই যে মোশি মিশর দেশ থেকে আমাদের বের করে আনলেন, তাঁর কী হল, আমরা জানি না।"
41আর সেই সময় তারা একটা বাছুর তৈরি করলেন, এবং সেই মূর্তির উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করলেন, ও নিজেদের হাতের তৈরি জিনিসে আনন্দ করতে লাগলেন।
42কিন্তু ঈশ্বর খুশি হলেন না, তাঁদের আকাশের বাহিনী পূজো করার জন্য সমর্পণ করলেন; যেমন ভাববাদী গ্রন্থে লেখা আছে ,"প্রিয় ইস্রায়েল লোকেরা, মরুভূমিতে চল্লিশ বছর পর্যন্ত তোমরা কি আমার উদ্দেশে পশুবলি ও উপহার উৎসর্গ করেছিলে?
43তোমরা বরং মোলকের তাঁবু ও রিফন দেবতার তারা তুলে নিয়ে বহন করেছ, সেই মূর্তিগুলো, যা তোমরা পূজো করার জন্য গড়েছিলে; আর আমি তোমাদের বাবিলের ওদিকে নির্বাসিত করব।"
44যেমন তিনি আদেশ করেছিলেন, সাক্ষ্য তাঁবু মরুভুমিতে আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে ছিল, যিনি মোশিকে বলেছিলেন, তুমি যেমন নমুনা দেখলে, সেরকম ওটা তৈরি কর।
45আর আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাদের সময়ে ওটা পেয়ে যিহোশুয়ের কাছে আনলেন, যখন সেই জাতিগনের অধিকারে প্রবেশ করল, যাদের ঈশ্বর আমাদের পূর্বপুরুষের সামনে থেকে তাড়িয়ে দিলেন। সেই তাঁবু দায়ূদের সময় পর্যন্ত ছিল।
46ইনি ঈশ্বরের চোখে অনুগ্রহ পেলেন, এবং যাকোবের ঈশ্বরের জন্য একটি গৃহ নির্ম্মাল করার জন্য অনুমতি চাইলেন;
47কিন্তু শলোমন তাঁর জন্য একটি গৃহ নির্ম্মাণ করলেন।
48অথচ ঈশ্বর হাতের তৈরি গৃহে বাস করেন না; যেমন ভাববাদী বলেন
49"স্বর্গ আমার সিংহাসন, পৃথিবী আমার পা রাখার স্থান; প্রভু বলেন, তোমরা আমার জন্য কেমন বাসস্থান বানাবে?
50অথবা আমার বিশ্রামের স্থান কোথায়? আমার হাতই কি এ সমস্ত তৈরী করেনি?"
51হে ঘাড়শক্ত লোকেরা এবং হৃদয়ে ও কানে অচ্ছিন্নত্বকেরা, তোমরা সবসময় পবিত্র আত্মার প্রতিরোধ করে থাক; তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যেমন, তোমরাও ঠিক তেমন।
52তোমাদের পূর্বপুরুষেরা কোন ভাববাদীকে তাড়না না করেছে? তারা তাঁদের মেরে ফেলেছিল, যাঁরা আগেই সেই ধার্মিকের আসার কথা জানত, যাকে কিছু দিন আগে তোমরা শত্রুর হাতে তুলে দিলে ও মেরে ফেলেছিলে;
53তোমরা সকলে দূতগনের দ্বারা মোশির ব্যবস্থা পেয়েছিলে, কিন্তু পালন করনি।
54এই কথা শুনে মহাসভার সদস্যরা আঘাতগ্রস্ত হলো, স্তিফানের দিকে চেয়ে দাঁতে দাঁত ঘষতে লাগল।
55কিন্তু তিনি পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে স্বর্গের দিকে একনজরে চেয়ে দেখলেন যে, ঈশ্বরের মহিমা রয়েছে, এবং যীশু ঈশ্বরের ডানদিকে দাঁড়িয়ে আছেন,
56আর তিনি বললেন, দেখ, আমি দেখছি, স্বর্গ খোলা রয়েছে, মানবপুত্র ঈশ্বরের ডানদিকে দাঁড়িয়ে আছেন।
57কিন্তু তারা খুব জোরে চিৎকার করে উঠল, নিজে নিজের কান চেপে ধরল, এবং একসাথে তাঁর উপরে গিয়ে পড়ল;
58আর তাঁকে শহর থেকে বের করে পাথর মারতে লাগল; এবং সাক্ষীরা নিজে নিজের কাপড় খুলে শৌল নামের একজন যুবকের পায়ের কাছে রাখল।
59এদিকে তারা স্তিফানকে পাথর মারছিল, আর তিনি তাঁর নাম ডেকে প্রার্থনা করলেন, হে প্রভু যীশু আমার আত্মাকে গ্রহণ করো l
60পরে তিনি হাঁটু পেতে জোরে জোরে বললেন, প্রভু, এদের বিরুদ্ধে এই পাপ ধর না। এই বলে তিনি মারা গেলেন। আর শৌল তার হত্যার আদেশ দিচ্ছিলেন।